জুলাই গণঅভ্যুত্থানে আন্দোলনকারীদের নিয়ে বিরূপ মন্তব্য করার কারণে বিএনপির চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা ফজলুর রহমানকে গ্রেপ্তার ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবিতে অবস্থান নিয়েছে ছাত্র-জনতা। ফলে আন্দোলন ঘিরে ঘটনাস্থলে সতর্ক অবস্থানে রয়েছে আইন শৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরা। এর আগে বিরূপ মন্তব্যের জন্য ফজলুর রহমানকে শোকজ করে বিএনপি।
সোমবার সকাল থেকে রাজধানীর সেগুনবাগিচায় দুদক কার্যালয় সংলগ্ন ফজলুর রহমানের বাসার সামনে বিক্ষোভ চালিয়ে যান তারা। এসময়, সেখানে সেনাবাহিনীর সদস্য ও পুলিশ সদস্যদের উপস্থিতি দেখা গেছে।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক আন্দোলনকারী এক ছাত্র বলেন, “বিএনপির ফজলুর রহমান উনি বিপ্লবীদেরকে যেভাবে রাজাকারের বাচ্চা বলছেন, তাদেরকে যে পরিমাণে কালো শক্তি বলছেন এবং তিনি বলছেন আমরা ২৪ এ অভিনয় করছি। আমরা আসলে অভিনয়টা করতে আসছি এবং এখানে আজকে তাকে গ্রেফতার করার অভিনয়টা করা হবে।”
তিনি বলেন, আমাদের দাবি হচ্ছে তাকে গ্রেপ্তার করে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির আওতায় আনতে হবে। আমরা সুশীলভাবে আন্দোলন করছি। প্যাসিভ ভাবে আন্দোলন করছি। কিন্তু আমাদের কাছে মনে হয় আমাদের অন্তর্বর্তী সরকার আমাদের সুশীল আন্দোলন এবং প্যাসিভ আন্দোলনের মূল্যায়ন করতে ব্যর্থ হয়েছেন। এরপর থেকে আর কোনো মিনমিন করা আন্দোলন হবে না।
আজকে যেমন তার বাসার সামনে এসে চোখে চোখে রেখে কথা বলতেছি। এরপর থেকে যে কেউই ২৪ এর আন্দোলনকে যারা খাটো করতে চাবে তাদের সঙ্গে সামনাসামনি হবে। আমরা এই বিপ্লবী জনতা চোখের সামনে চোখ রেখে কথা বলবো।
এদিকে বিএনপি চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা কাউন্সিলের সদস্য অ্যাডভোকেট ফজলুর রহমান বলেছেন, যারা ৫ আগস্ট ঘটাইছে তারা কালো শক্তি, একথা আমি বলিনি। সমস্ত বক্তব্য শোনার আহ্বান জানান তিনি। তিনি বলেন, যদি প্রমাণ হয় তাহলে আমি ক্ষমা চাইবো। মুক্তিযোদ্ধার বিষয়ে আপোস করবো না। মব বা মৃত্যুতে আমার ভয় নেই।
সোমবার দুপুরে হাইকোর্টের সামনে সাংবাদিকদের তিনি এসব কথা বলেন। তিনি বলেন, আমার বাসার সামনে ৭ থেকে ৮ জন ছেলে-মেয়ে শ্লোগান দিচ্ছেন। এদিকে ফ্রান্স থেকে দুই ইউটিউবার আমাকে হত্যার হুমকি দিচ্ছে।
তিনি বলেন, আমাকে হত্যা করতে চায়, সংবিধানে আমার বাঁচার অধিকার আছে। আমার কথায় কেউ যদি কষ্ট পেয়ে থাকেন তাহলে আমার বিরুদ্ধে মামলা করতে পারেন, আমাকে গ্রেপ্তার করতে পারেন। কিন্তু আমাকে হত্যা করার কথা বলছেন কেন। একজন মুক্তিযোদ্ধা হিসাবে কি আমার বাঁচার অধিকার নেই।
বিএনপির পক্ষ থেকে দেয়া কারণ দর্শানো নোটিশের বিষয়ে ফজলুর রহমান বলেন, রোববার রাত ৯টার দিকে আমি নোটিশ পেয়েছি। একজন বার্তাবাহক নোটিশ আমার বাসায় পৌঁছে দিয়ে গেছে। আমি সিদ্ধান্ত নিয়েছি নোটিশের জবাব দেয়ার।
জুলাই-আগস্ট গণঅভ্যুত্থান নিয়ে ক্রমাগত বিতর্কিত ও বিভ্রান্তিকর মন্তব্য করার অভিযোগে ফজলুর রহমানকে কারণ দর্শানোর নোটিশ দেয়া হয়েছে। ২৪ ঘণ্টার মধ্যে তাকে নোটিশের জবাব দিতে বলা হয়েছে।