চট্টগ্রাম আদালত প্রাঙ্গণে আইনজীবী সাইফুল ইসলাম আলিফ হত্যা মামলায় তদন্ত কর্মকর্তার বাদ দেয়া এক আসামিকেও চার্জশিটে অন্তর্ভুক্ত করে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করেছেন আদালত। সোমবার চট্টগ্রাম মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট এস এম আলাউদ্দীনের আদালতে এ নির্দেশ দেয়া হয়।
চট্টগ্রাম মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট এস এম আলাউদ্দীন মামলার তদন্ত কর্মকর্তার দাখিল করা চার্জশিট গ্রহণযোগ্যতা শুনানি শেষে এ আদেশ দেন। শুনানিতে বাদী ও শহীদ আলিফের পিতা জামাল উদ্দিন উপস্থিত ছিলেন।
বাদী জামাল উদ্দিনের আবেদন ও বাদীর আইনজীবীর প্রমাণের ভিত্তিতে আদালত সুকান্ত নামের ওই আসামিকে চার্জশিটে অন্তর্ভুক্ত করেন। এর আগে তদন্ত কর্মকর্তা ৪২ আসামির মধ্যে ৪ জনকে বাদ দিয়ে ৩৮ জনের বিরুদ্ধে চার্জশিট দিয়েছিলেন। পরে আদালত বাদীর পক্ষের প্রমাণ বিবেচনায় নিয়ে সুকান্তকেও আসামি হিসেবে যুক্ত করেন।
এ নিয়ে মামলার চার্জশিটে আসামির সংখ্যা দাঁড়ালো ৩৯ জনে। তাঁদের মধ্যে সনাতনী জাগরণ জোটের মুখপাত্র চিন্ময় কৃষ্ণ দাস ব্রহ্মচারীসহ ২০ জন কারাগারে, পলাতক রয়েছেন ১৮ জন। চিন্ময়সহ ১৭ আসামির ব্যাংক হিসাবও ইতিমধ্যে জব্দ করা হয়েছে।
বাদীপক্ষের আইনজীবী সহকারী সরকারি কৌঁসুলি মো. রায়হানুল ওয়াজেদ চৌধুরী বলেন, সুকান্ত আলিফ হত্যায় জড়িত ছিলেন। তার বিরুদ্ধে সব প্রমাণ আদালতে হাজির করি। তখন আদালত সুকান্তকে চার্জশিটে অন্তর্ভুক্ত করার নির্দেশ দেন।
আদালতে ছুটে বেড়ানো বাবার শেষ প্রার্থনা
নিহত আইনজীবী আলিফের বাবা জামাল উদ্দিন আমার দেশকে জানান, জীবনে তাঁর আর কোনো চাওয়া–পাওয়া নেই। একমাত্র ছেলেকে হারিয়ে তিনি দিশাহারা।
চোখভেজা কণ্ঠে তিনি বলেন, ছেলে ছিল আমার ভরসা। এখন শুধু চাই স্বল্প সময়ে আলিফ হত্যার বিচার হোক। তবেই হয়তো আমি একটু শান্তি পাবো।
জামাল উদ্দিনের কথায় ভেসে ওঠে এক অসহায় বাবার কষ্ট। আদালত প্রাঙ্গণে প্রতিটি শুনানির দিন তিনি ছুটে আসেন কেবল এই আশায় যে হত্যাকারীরা আইনের ফাঁক গলে বের হয়ে যাবে না। তিনি বলেন, আমার ছেলের রক্তের দাগ বুকে নিয়ে বেঁচে আছি। আলিফের হত্যার বিচারই আমার জীবনের শেষ আশা।
গত ১ জুলাই চট্টগ্রাম মহানগর আদালতের প্রসিকিউশন বিভাগে ৩৮ জনকে আসামি করে চার্জশিট দাখিল করা হয়। মামলাটির তদন্ত কর্মকর্তা পুলিশের কোতোয়ালি জোনের সহকারী কমিশনার মো. মাহফুজুর রহমান এই চার্জশিট দাখিল করেন। প্রথমে মামলায় ৪২ জনকে আসামি করা হয়। এর মধ্যে জড়িত না থাকায় ৪ জনকে বাদ দিয়ে ৩৮ জনের নামে চার্জশিট দেন তদন্ত কর্মকর্তা। আজকে সুকান্ত নামে একজনের সম্পৃক্ততার প্রমাণ হাজির করার পর আদালত ওই সুকান্তসহ ৩৯ জনকে চার্জশিটে রেখে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করেন।
চিন্ময় কৃষ্ণ দাসসহ ১৭ সনাতনীর ব্যাংক হিসাব জব্দ
পুলিশ বলেছে, এই মামলায় এখন পর্যন্ত চিন্ময়সহ ২০ জন গ্রেপ্তার রয়েছেন। পলাতক ১৮ জন। গত বছর ৩০ নভেম্বর কোতোয়ালি থানায় ৩১ জনের নাম উল্লেখ করে ও ১০-১৫ জনকে অজ্ঞাতনামা আসামি দেখিয়ে একটি হত্যা মামলা করেন আলিফের বাবা জামাল উদ্দিন।
এর আগে গত বছরের ২৫ নভেম্বর রাতে ঢাকার হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর থেকে চিন্ময়কে গ্রেপ্তার করে ঢাকা মহানগর পুলিশের (ডিএমপি) গোয়েন্দা শাখা। পরে তাকে ২৬ নভেম্বর চট্টগ্রাম নগরের কোতোয়ালি থানায় হওয়া রাষ্ট্রদ্রোহ মামলায় গ্রেপ্তার দেখিয়ে চট্টগ্রাম আদালতে হাজির করা হলে বিচারক কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন।
এ ঘটনাকে কেন্দ্র করে আদালত প্রাঙ্গণে ব্যাপক হাঙ্গামা সৃষ্টি করেন চিন্ময়ের অনুসারীরা। তাঁকে বহনকারী প্রিজন ভ্যান প্রায় তিন ঘণ্টা আদালত এলাকায় আটকে রাখেন তাঁরা। একপর্যায়ে পুলিশ, বিজিবি লাঠিপেটা ও সাউন্ড গ্রেনেড নিক্ষেপ করে বিক্ষোভকারীদের ছত্রভঙ্গ করে দেয়। এই অবস্থায় সংঘর্ষের সূত্রপাত হয়। পরে তা নগরীর লালদীঘির পাড় থেকে কোতোয়ালি এলাকায় ছড়িয়ে পড়ে। চিন্ময় কৃষ্ণ দাস ঢাকায় গ্রেপ্তারের পর থেকে চট্টগ্রাম কেন্দ্রীয় কারাগারে রয়েছেন।